‘বিএনপির হয়ে নির্বাচন করা মানে খাল কেটে কুমির আনা’

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য ফরম বিতরণ ও জমার সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিন্তু দলীয় এমন ঘোষণায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি তৃণমূল বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, বিএনপির হয়ে যেকোনো নির্বাচনে অংশ নেয়া মানে নিশ্চিত পরাজয় বরণ করা। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের অংশ নিতে বাধ্য করিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় হাইকমান্ড। তাই দ্বিতীয় দফায় পৌরসভা নির্বাচনে অনেকটা অনীহা দেখাচ্ছেন বিএনপির তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি ঘনিষ্ঠ একাধিক গোপন সূত্র বলছে, আগামী ২০ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী শুধুমাত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। কিন্তু বিএনপির এমন নির্দেশনায় খুশি হতে পারছেন না তৃণমূল নেতারা। কারণ তাদের কাছে, বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অর্থ বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হওয়া। সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনে তো বিএনপি প্রার্থীর জামানত পর্যন্তও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায় না। এমনকি দলীয় নেতা-কর্মীরাও ভোট কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নন। পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের শক্তিশালী দল জামায়াতও তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো অবস্থায় নেই বিএনপি। স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কেবল তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে কৌশলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীরা পরাজিত হন, তৃণমূলে মুখ দেখাতে পারেন না-অথচ কেন্দ্রের নেতারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

তাই পৌরসভা নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। দল গঠন প্রক্রিয়াকে স্থগিত রেখে নির্বাচনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশ নেয়াটাকে বোকামি মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অজুহাতে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে নির্বাচন খেলায় মেতেছেন তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলরা। তাই পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার অর্থ ‘খাল কেটে কুমির আনার মতো’। তাই সচেতন ও বুদ্ধিমান বিএনপির নেতারা পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিবে না বলেও মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।