নজরদারিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ১৬ নেতা

নিউজ ডেস্ক: দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজ করেছে বিএনপি। জানা গেছে, পল্টন ও গুলিস্তানে হঠাৎ বিএনপির শতাধিক কর্মীর সমাবেশের পর তাদের এই চিঠি দেয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন তারা। এমন অভিযোগে কেন্দ্রীয় ১৬ নেতাকেও নজরদারিতে রেখেছে দলটির হাইকমান্ড। তাদের নানা কর্মকাণ্ডে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাফিজ উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডেইলি বাংলাদেশকে হাফিজ উদ্দিন নিজেই এ বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দলের শোকজের চিঠি তিনি আজ মঙ্গলবার হাতে পেয়েছেন। তিনি চিঠির উত্তর প্রস্তুত করছেন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর বা তার পর নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন সংবাদ সম্মেলনে।

এক্ষেত্রে দল থেকে পদত্যাগ করার বিষয়টি কি সামনে আসবে?- এমন প্রশ্নে হাফিজ উদ্দিন বলেন, চিন্তা-ভাবনা করছি। চিঠি একটু আগে পেলাম। চিঠি পড়িনি। চিন্তা-ভাবনা করে জানাবো।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সদুত্তর না পেলে বহিষ্কার হতে পারেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বিএনপির সূত্রগুলো জানায়, গত ১৪ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন-গুলিস্তান এলাকায় বিক্ষোভ করে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি উলফাতও সেখানে ছিলেন, এমন দাবি একাধিক সূত্রের।

দলের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, নজরদারিতে থাকা এসব নেতাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, বিএনপির ভেতরে থেকে দলের ক্ষতির চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ একটি গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মাইনাস করে বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিশেষ করে সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও গোপন বৈঠকসহ বেশকিছু কর্মসূচিতে দলের কয়েকজন নেতা অংশ নিয়েছেন। তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

তাদের ধারণা, যেসব নেতা দলের মূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে সংস্কার প্রস্তাব এনেছিলেন তাদের বড় একটি অংশ এবং সাবেক ছাত্র নেতাদের একটি অংশ এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

সিনিয়র দুই নেতাকে শোকজের প্রভাব দলে কেমন পড়বে, এমন প্রশ্নে দায়িত্বশীল একজন সিনিয়র নেতা বলেন, প্রভাব তো পড়বে। তবে প্রভাবের বেনিফিট শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে নেবে, সেটাই বিবেচ্য। বিষয়টি যদি শীর্ষ নেতৃত্ব জেনে-বুঝে করে থাকেন, তাহলে দল বেনিফিটেড হবে।