সন্তানকে হত্যা করে মা বললেন ‘ও খাটের নিচে ঘুমাচ্ছে’


সন্তানের বিভিন্ন ধরনের আবদার মেটাতে অধিকাংশ মা-বাবাই ব্যস্ত থাকেন। তেমনই মায়ের কাছে একটি বেলুন কিনে দেয়ার আবদার

করে শিশু মাজহারুল ইসলাম। কিন্তু বেলুন তো কিনে দেননি উল্টো মাজহারুলের ওপর ক্ষিপ্ত হন মা মাহমুদা খাতুন। একপর্যায়ে সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন তিনি।

বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউপির বালিয়ারপাড় গ্রামে। নিহত মাজহারুল একই গ্রামের রাজিবুল ইসলামের ছেলে।

১২ বছর আগে মাহমুদাকে বিয়ে করেন রাজিবুল। তাদের ঘরে দুই সন্তান জন্ম হয়। তবে বছরখানেক আগে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাবার বাড়ি চলে যান মাহমুদা।

এ সুযোগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কাকলীকে বিয়ে করেন রাজিবুল। প্রথম স্ত্রী মাহমুদা কয়েক মাস পর রাজিবুলের ঘরেই ফিরে আসেন। পরে একসঙ্গে দুই স্ত্রী নিয়েই চলছিল সংসার। কিন্তু শুরু হয় অশান্তি। কাকলী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বুধবার দুপুরে তাল রান্না করেন কাকলী। এ সময় তাল খেতে চায় শিশু মাজহারুল। এতে সৎমা আপত্তি করায় নিজের মায়ের কাছে বায়না ধরে শিশুটি।

নিজের মা সন্তানকে শাসিয়ে নিভৃত করলেও অবুঝ শিশুর মন মানে না। তাই সে বাবার কাছে তাল খাওয়ার আবদার করে। পরে সৎমায়ের কাছ থেকে তাল এনে দেন বাবা।

ছেলেকে সৎমায়ের রান্না করা তাল খাওয়ানো নিয়ে বাবার সঙ্গে ঝগড়া করেন মাহজারুলের মা মাহমুদা। একই দিনে বাড়িতে আসা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে বেলুন কিনে দেয়ার বায়না ধরে শিশু মাহজারুল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহজারুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন মা।

এদিকে, দীর্ঘক্ষণ মাজহারুলকে না দেখে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় মা নিজেও সন্তানকে খুঁজতে থাকেন।

একপর্যায়ে মাহমুদা বলেন- ও খাটের নিচে ঘুমাচ্ছে। পরে খাটের নিচে মাজহারুলের লাশ পান তার দাদি। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।

ত্রিশাল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই শিশু মাজহারুলের মা মাহমুদাকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি।